কভিড-১৯ মহামারীর সময় ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকায় দ্রুত প্রসার ঘটে খাতটির। তখন স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডারের প্রবণতা বেড়ে যায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সারকানা জাপান লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ২০২৩ সালে ফুড ডেলিভারি বাজারের আকার ছিল ৮৬০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েন। এটি ২০১৯ সালের মহামারীর আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। তবে ২০২৪ সালে বাজারে ৬ দশমিক ১ শতাংশ সংকোচন দেখা যায়। ২০২৫ সালে খাতটি ফের ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও এর গতি এখনো মন্থর।
বর্তমানে জাপানের এ বাজার মূলত কয়েকটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানে আছে উবার ইটস জাপান ও দেমায়ে-ক্যান। কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। সাধারণত দোকানে গিয়ে খাবার কেনার তুলনায় ফুড ডেলিভারিতে খরচ বেশি হয়। কিন্তু একটি মার্কিন কোম্পানির জাপানি শাখা রকেট নাউ ২০২৫ সালে বাজারে এসে দোকানের দামেই খাবার ডেলিভারির ঘোষণা দেয়। এতে মূল্যযুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে গত মার্চে জাপানের বাজার থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় হেলসিংকি-ভিত্তিক ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ওল্ট। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ছয় বছর সেখানে ব্যবসা করে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় মুনাফার হার সবসময়ই কম। এতে প্রচুর অর্ডারের ওপর নির্ভর করতে হয়। পাশাপাশি ডেলিভারি কর্মীদের মজুরি ও বিজ্ঞাপনের পেছনে বিশাল খরচ রয়েছে।
জাপানের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান দেমায়ে-ক্যান চলতি বছরের আগস্টে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে ৪০০ কোটি ইয়েন লোকসানের আশঙ্কা করছে। এটি হবে কোম্পানিটির টানা অষ্টম বছরের লোকসান।